পঞ্চম ভাগ · ভুল পথ সেবা ও সাহায্য
অধ্যায় ২৩
তাবিজ, কবচ, কবিরাজ, ওঝা, অজানা মন্ত্র ও সন্দেহজনক পদ্ধতি
অর্থ অজানা মন্ত্র, রহস্যময় প্রতীক ও শরিয়তবিরোধী পদ্ধতি থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
৬টি প্রশ্নপ্রায় ৩ মিনিটের পড়া
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
সূচনা
ভয়ের সময়ে পরিচিত একজন হয়তো বললেন, ‘এটি গলায় রাখুন, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ কেউ কাগজে অচেনা চিহ্ন লিখে দেন, কেউ নাম-ঠিকানা ও ছবি চান, কেউ আবার চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেন। এমন অবস্থায় সব বস্তু বা সব আলেমকে এক নামে দোষারোপ না করে, প্রমাণ ও বিশ্বাসের বিষয়গুলো আলাদা করে দেখুন।
১. স্পষ্ট সীমা: শিরক ও অজানা মন্ত্র
সহিহ মুসলিম ২২০০-এ শিরকমুক্ত রুকইয়াহর অনুমতি এসেছে। অচেনা শব্দ, দেবতা বা অদৃশ্য সত্তার নামে সাহায্য চাওয়া, উৎস অস্পষ্ট মন্ত্র, কিংবা কোনো বস্তু নিজের শক্তিতে রক্ষা করবে এমন বিশ্বাস এই সীমার সঙ্গে মেলে না। আবু দাউদ ৩৮৮৩-এ তাবিজ ও প্রেম-জাদু সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে। ঐ বর্ণনায় ব্যবহৃত ‘রুকইয়াহ’ শব্দকে সব কুরআন-দোয়ার পাঠের ওপর নির্বিচারে চাপাবেন না; মুসলিম ২২০০ বৈধ রুকইয়াহর সীমা স্পষ্ট করে।
২. কুরআনের আয়াত লেখা তাবিজে মতভেদ
কেবল কুরআনের আয়াত বা প্রমাণিত দোয়া লেখা তাবিজের হুকুম নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। কিছু হানাফি আলেম নির্দিষ্ট শর্তে ছাড়ের কথা বলেছেন; অন্য আলেমরা সাধারণ নিষেধকে ব্যাপক ধরে এটিও এড়িয়ে যেতে বলেছেন। মতভেদ থাকা বিষয়ে যে একটি অবস্থান নেবেন, তা বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বুঝে নিন। এটিকে নিশ্চিত শিরক বলে সবাইকে অপবাদ দেবেন না; আবার ‘যা লেখা আছে বুঝি না’ এমন বস্তু নিরাপদ ধরে নেবেন না।
কুরআনের আয়াত পাঠ, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা এমন পথ, যেখানে গোপন কাগজের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বইয়ের ব্যবহারিক নির্দেশনায় সেই পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
৩. কবিরাজ বা ওঝার কাছে গেলে কী জিজ্ঞাসা করবেন?
কী পড়া হবে, তার অর্থ জানা আছে কি? চিকিৎসা বন্ধ করতে বলছেন কেন? স্পর্শ বা একান্তে থাকার দাবি কি সম্মতিসাপেক্ষ ও শালীন? নির্দিষ্ট অর্থ কত, পরে নতুন খরচ চাপবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ভয় দেখালে সেখান থেকে সরে আসুন। অচেনা ধোঁয়া, খাওয়ার মিশ্রণ, বেঁধে রাখা বা আঘাতের মতো কাজ নিরাপত্তার বিষয়ও।
৪. পরিবারে অভিযোগের ক্ষতি
দাম্পত্য কলহ, সন্তান না হওয়া বা কারও অসুস্থতা দেখে নির্দিষ্ট প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে ‘জাদুকর’ বলবেন না। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়, অন্যায় অভিযোগের ঝুঁকি থাকে, প্রকৃত চিকিৎসা বা পারিবারিক সহায়তা পিছিয়ে যেতে পারে। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।
অচেনা বস্তু পেলে
কোনো কাপড়, কাগজ বা বোতল দেখে আতঙ্কে তা খুলে গন্ধ নেওয়া, পোড়ানো বা পান করা ঠিক হবে না। বস্তুতে কী আছে জানা না থাকলে নিরাপদ দূরত্বে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বস্ত আলেম বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। এটি অদৃশ্য বিপদের প্রমাণও নয়; নিরাপত্তার সাধারণ বিবেচনা।
আলেমদের মতভেদের বিষয় এবং স্পষ্ট শিরক বা অজানা মন্ত্রের বিষয় আলাদা রাখুন। একজন ব্যক্তি কুরআনের আয়াত লেখা তাবিজ ব্যবহার করছেন বলেই তাঁকে তাড়াহুড়া করে অপবাদ দেবেন না। আবার মতভেদের নাম করে অর্থ না জানা চিহ্ন, ক্ষতিকর পানীয় বা মানুষের ওপর অত্যাচারকে গ্রহণযোগ্য বলবেন না। নিজের জন্য পড়া ও প্রমাণিত দোয়া শেখার পথ সব সময় খোলা।
সহায়তা চাইলে আপনার অধিকার
কী পড়বেন তা শোনা ও বোঝার অধিকার আপনার আছে। ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা পারিবারিক বিরোধের গল্প কেন প্রয়োজন, জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কেউ স্পর্শ, একান্তে থাকা বা নতুন অর্থ দেওয়ার চাপ দিলে সরে আসতে পারেন। অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে প্রশ্ন করা কঠিন হলে তাঁর সম্মতিতে বিশ্বস্ত একজন পাশে থাকুন।
এখন কী করবেন?
অচেনা লেখা বা বস্তু থাকলে নিজে আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্বস্ত যোগ্য আলেমকে দেখান। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসা বন্ধ বা ক্ষতিকর কিছু খেতে বললে তা মানবেন না। নিজের জানা কুরআন ও দোয়ায় ফিরে আসুন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন।
মনে রাখুন
প্রমাণিত রুকইয়াহ ও অজানা মন্ত্র এক বিষয় নয়। আয়াত-লেখা তাবিজে আলেমদের মতভেদ আছে। গোপন পদ্ধতি, অযাচিত স্পর্শ ও ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি বিপদের লক্ষণ।
তথ্যসূত্র
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০০; সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৮৩ (উদ্ধৃত সংস্করণে আল-আলবানি সহিহ হিসেবে চিহ্নিত)। কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত আল-মাওসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩০, ‘তামীমাহ’ প্রসঙ্গ: কুরআনের আয়াত লেখা তাবিজে মতভেদের বিবরণ। সেখানে হানাফি সূত্র হিসেবে ইবন আবিদীন, হাশিয়াহ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩২, বুলাক সংস্করণের উল্লেখ আছে।
পর্যালোচনা করেছেন: Emad Uddin, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?
রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।