মূল বিষয়বস্তুতে যান

নুরুল কালাম একাডেমিতে আপনাকে স্বাগতম

০১৫৭৭৩০১১৬১

চতুর্থ ভাগ · আয়াত দোয়া ও দৈনন্দিন আমল

অধ্যায় ২১

দৈনন্দিন জীবনের মাসনুন দোয়া, আদব ও হেফাজত

দৈনন্দিন জীবনে সুন্নাহসম্মত দোয়া, আদব ও আল্লাহর স্মরণকে অভ্যাসে পরিণত করা।

১০টি প্রশ্নপ্রায় ৪ মিনিটের পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

সূচনা

রুকইয়াহ শুধু অসুস্থ অবস্থায় পড়ার বিষয় নয়। দিনের সাধারণ কাজেও আল্লাহকে স্মরণ করার শিক্ষা আছে। তবে প্রতিটি কাজের জন্য লম্বা দোয়ার তালিকা মুখস্থ করা জরুরি করে তুললে যে পাঠক শুরু করতে চান, তিনিই পিছিয়ে যান। আজ যে আমলটি শেখা সম্ভব, সেটি দিয়েই শুরু করা যায়।

১. খাবারের সময়

খাবারের আগে আল্লাহর নাম নিতে, ডান হাতে খেতে এবং সামনে থেকে নিতে নবী ﷺ একটি শিশুকে শিখিয়েছেন। (সহিহ আল-বুখারি, ৫৩৭৬) এই সংক্ষিপ্ত শিক্ষা পরিবারের বড়রাও কোমলভাবে অনুশীলন করতে পারেন। খাওয়ার আগে আল্লাহর নাম বলার অভ্যাসকে খাবার নিরাপদ কি না যাচাই করার বিকল্প বানাবেন না।

খাবারের শুরুতে ভুলে গেলে বর্ণিত পাঠ, সুনান আবু দাউদ ৩৭৬৭:

بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

অর্থ: আল্লাহর নামে, এর শুরুতে ও শেষেও।

২. ঘরে ঢোকা ও পরিবারের সঙ্গে আচরণ

ঘরে ঢোকার সময় এবং খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করার ফজিলত সহিহ মুসলিম ২০১৮a-এ এসেছে। এ হাদিসের মূল বিষয় আল্লাহর স্মরণ। ঘরে শান্তি আনতে সালাম, পরস্পরের সম্মান, নিরাপদ পরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনও দরকার। ঘরে অশান্তি হলেই ‘কেউ যাদু করেছে’ বলে অভিযোগ তুলবেন না।

৩. বাইরে যাওয়ার আগে এবং ফিরে এসে

বাইরে বের হলে নিজের কাজের প্রস্তুতি নিন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মেনে চলুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। প্রতিটি ঝুঁকির জন্য নতুন মন্ত্র বা অজ্ঞাত সংখ্যার পাঠ খুঁজতে হবে না। পরিচিত দোয়া যাচাই করে শিখুন; যে বাক্যটি মূল হাদিসে মিলাতে পারেননি, সেটি ‘মাসনুন’ নামে ছাপাবেন না।

ভরসার অর্থ দরজা খোলা রাখা, ওষুধ ভুলে যাওয়া বা শিশুকে অসুরক্ষিত রাখা নয়। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করুন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার একটি বর্ণিত দোয়া, সুনান আবু দাউদ ৫০৯৫; উদ্ধৃত সংস্করণে সহিহ হিসেবে চিহ্নিত:

بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

অর্থ: আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, তাঁর ওপর ভরসা করছি; আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। এই নির্দিষ্ট দোয়াটি শেখার পর নিজের কাজের বাস্তব নিরাপত্তাও দেখুন।

৪. অসুস্থতা ও অন্যের জন্য দোয়া

অসুস্থ কাউকে দেখলে তার কথা শুনুন, চিকিৎসার পথ বন্ধ করবেন না এবং চাইলে তার জন্য দোয়া করুন। অধ্যায় ১৯-এ প্রামাণিক রুকইয়াহর নির্বাচিত দোয়া আছে। অন্যের শরীর স্পর্শ, ব্যক্তিগত তথ্য জানা বা একান্তে বসার ব্যাপারে তাঁর সম্মতি ও শালীনতার সীমা মেনে চলুন। পরিবারের শিশুদেরও ভয় দেখিয়ে দোয়া শেখাবেন না।

৫. দৈনন্দিন আমল আর অদৃশ্য রোগ নির্ণয়

কেউ নিয়মিত দোয়া পড়েন, তবু অসুস্থ হতে পারেন। কেউ ভুলে গেলেও ঘটনার অদৃশ্য কারণ আপনি জানেন না। সকাল-সন্ধ্যার পাঠ, সালাম, খাওয়ার আদব এবং ঘুমের আমল হলো ইবাদত ও জীবনযাপনের অংশ; এগুলো দিয়ে ব্যক্তি বা পরিবারের আধ্যাত্মিক ‘স্কোর’ মাপার নিয়ম বানাবেন না।

৬. পরিবারে আদব শেখানোর ভাষা

শিশুকে বলুন, ‘খাওয়ার আগে আল্লাহর নাম বলি।’ ভুলে গেলে শান্তভাবে মনে করিয়ে দিন। কেউ অসুস্থ হলে ‘তুমি আমল করোনি বলে হয়েছে’ এমন কথা বলবেন না। এতে সাহায্য চাইতে ভয় পেতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রেও একই সম্মান প্রযোজ্য।

দোয়া ও আদব শেখানোর সঙ্গে ঘরের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, খাবারের স্বাস্থ্যবিধি এবং পারস্পরিক যত্নের সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটির নিজস্ব কাজ আছে; একটি দিয়ে অন্যটির দায়িত্ব এড়ানো যায় না।

৭. কোন দোয়াটি আগে শিখবেন?

নিজের অবস্থায় নিয়মিত ঘটে এমন কাজ দিয়ে শুরু করুন। ঘরে খাওয়া-দাওয়া বেশি হলে খাবারের আদব, বাইরে যাতায়াত বেশি হলে বের হওয়ার প্রমাণিত দোয়া, অসুস্থতার সময়ে শিফার দোয়া শিখুন। আলাদা সূত্রে বর্ণিত শব্দগুলো মিলিয়ে একটি নতুন ‘সমন্বিত দোয়া’ তৈরি করবেন না।

কোনো ছাপা বাংলা উচ্চারণ উচ্চারণশিক্ষকের সরাসরি সংশোধনের বিকল্প নয়। কুরআনের আরবি আয়াত পড়তে হলে মুসহাফের পাঠ দেখুন; অর্থ বোঝার জন্য অনুবাদ ব্যবহার করুন।

ঘরের একটি ছোট দৃশ্য

শিশু খাবার শুরু করে ফেলেছে। অভিভাবক চিৎকার না করে আল্লাহর নাম স্মরণ করিয়ে দিলেন, নিজেও তা বললেন। এই সহজ আচরণে শিক্ষা আছে; ভয় বা লজ্জা দিয়ে আদব শেখানোর দরকার নেই। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলেও একইভাবে তার প্রয়োজন শুনুন, খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা দেখুন, তারপর চাইলে তার জন্য দোয়া করুন।

ঘরে সালাম দেওয়া ও আল্লাহকে স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে কারও কথা মন দিয়ে শোনা, দায়িত্ব ভাগ করা এবং ভুল হলে ক্ষমা চাওয়ার জায়গাও আছে। কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার পরেও মানুষের মধ্যে বিরোধ থাকলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে জাদুর প্রমাণ বানাবেন না। সমস্যা কোথায়, তা শান্তভাবে বুঝে প্রয়োজনীয় পারিবারিক সহায়তা নিন।

দোয়া শেখার সময় সূত্রের সীমা

কোনো সুন্দর বাক্য শুনলেই সেটিকে নবী ﷺ-এর নামে ছড়াবেন না। প্রথমে দেখুন সেটি কুরআনের আয়াত, প্রমাণিত হাদিসের দোয়া, নাকি একজন মানুষের সাধারণ প্রার্থনা। সাধারণ ভাষায় নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে বলা যায়; সেটিকে নির্দিষ্ট নববী শব্দ, সংখ্যা বা ফজিলত হিসেবে চালানো আলাদা দাবি।

এখন কী করবেন?

আজ থেকে খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করুন। ঘরে ঢুকে সালাম দিন এবং আল্লাহকে স্মরণ করুন। যে নির্দিষ্ট দোয়া নতুন শিখবেন, তার আরবি ও অর্থ বিশ্বস্ত পাঠে মিলিয়ে নিন। পরিবারের কাউকে শেখালে আমলটি তাঁর কাছে বোঝার মতো করে বলুন, ভয় দেখিয়ে নয়।

মনে রাখুন

ছোট প্রমাণিত আমলও নিয়মিত করা যায়। আল্লাহর স্মরণ এবং মানুষের হক আদায় দুটোই জরুরি। দৈনন্দিন আদবকে চিকিৎসার বিকল্প বা অনাগত বিপদের নিশ্চয়তা করবেন না।

তথ্যসূত্র

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫০৯৫: বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া; উদ্ধৃত সংস্করণে আল-আলবানি সহিহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬৭: খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম বলতে ভুলে গেলে দোয়া; উদ্ধৃত সংস্করণে আল-আলবানি সহিহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৩৭৬। সহিহ মুসলিম, হাদিস ২০১৮a। রুকইয়াহর দোয়ার নির্দিষ্ট পাঠের জন্য অধ্যায় ১৯-এর সংকলিত মূল হাদিসগুলো দেখুন।

পর্যালোচনা করেছেন: Emad Uddin, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিজের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চান?

রুকইয়াহ সাপোর্ট পাতায় পরামর্শের সময় বেছে নিতে পারেন।

পরামর্শ বুক করুন
বইয়ের সূচিতে ফিরুন