Part three · নিজের জন্য রুকইয়াহ
Chapter 13
Self-ruqyah: why, when, and how to prepare
Mental and Shari'ah preparation for starting your own practice and relying less on practitioners unnecessarily.
7 questionsAbout 4 min read
This chapter is written in Bangla. An English version has not been published yet.
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
কেউ অসুস্থ হলে বা দীর্ঘদিন অস্বস্তিতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সাহায্য খোঁজেন। রুকইয়াহর কথা শুনে অনেকের প্রথম প্রশ্ন হয়, “ভালো কোনো রাকি কোথায় পাব?” অথচ নিজের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কুরআন পড়া এবং প্রমাণিত রুকইয়াহ করা শুরু করার জন্য অন্য কারও অপেক্ষা করতে হয় না।
এই অধ্যায়ে আমরা রুকইয়াহর পুরো পদ্ধতি সাজাচ্ছি না। আগে বুঝব, নিজের জন্য রুকইয়াহ কেন গুরুত্বপূর্ণ, কখন করা যায় এবং শুরু করার আগে কোন কথাগুলো পরিষ্কার রাখা দরকার।
1. নিজের জন্য রুকইয়াহ কেন করবেন?
নবী ﷺ অসুস্থতার সময় মু‘আওয়িযাত, অর্থাৎ এ বর্ণনায় সূরা আল-ফালাক ও আন-নাস পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন। অসুস্থতা বেড়ে গেলে আয়িশা (রা.) তাঁর জন্য পড়ে ফুঁ দিতেন এবং তাঁর নিজের হাত দিয়েই শরীর মুছিয়ে দিতেন। (সহিহ আল-বুখারি, ৫৭৫১)
এখানে দুটি দিক আছে। নিজের জন্য নিজে পড়ার প্রমাণ আছে। আবার প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য নেওয়ারও সুযোগ আছে। তাই নিজের জন্য রুকইয়াহকে একমাত্র বৈধ পথ, আর অন্যের সাহায্যকে ভুল বলা যাবে না।
নিজে পড়লে কুরআন ও দোয়ার সঙ্গে আপনার সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়। কাউকে খুঁজে পাওয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া বা বিশেষ আয়োজনের ওপর নির্ভর করতে হয় না। আপনি নিজের কষ্ট আল্লাহর কাছে বলতে পারেন। তবে কেউ নিজে পড়তে পারছেন না বলে তাঁকে অপরাধী মনে করাবেন না। সহায়তা নেওয়া দুর্বল ঈমানের প্রমাণ নয়।
2. কখন রুকইয়াহ করতে পারেন?
শরীরের অসুস্থতা বা ব্যথা হলে, ভয় বা অস্বস্তির মধ্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে চাইলে, কিংবা হেফাজতের মাসনুন আমল করতে চাইলে কুরআন ও প্রামাণিক দোয়া পড়তে পারেন। রুকইয়াহ শুরু করার আগে “আমার ওপর জাদু হয়েছে” বা “আমার মধ্যে জিন আছে” এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি নয়।
কারণ জানা থাকুক বা না থাকুক, দোয়া করা যায়। চিকিৎসা চলতে থাকলেও দোয়া করা যায়। আবার রুকইয়াহ পড়ার সময় বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া না হলেও পড়াটি অর্থহীন হয়ে যায় না। একটি লক্ষণের একাধিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে। তাই রুকইয়াহ করা আর অদৃশ্য কারণ নির্ণয় করা আলাদা বিষয়।
3. শুরু করার আগে বিশ্বাসের জায়গাটি পরিষ্কার করুন
শিফা আল্লাহর হাতে। কুরআন ও দোয়া তাঁর কাছে শিফা ও হেফাজত চাওয়ার বৈধ উপায়। কোনো রাকি, পানি, তেল, শব্দের সংখ্যা বা নির্দিষ্ট সময়ের নিজস্ব স্বাধীন ক্ষমতা নেই।
রুকইয়াহ শিরকমুক্ত হতে হবে। আগের আলোচনায় সহিহ মুসলিমের যে বর্ণনাটি এসেছে, তার আলোকে কী পড়ছেন এবং কী বিশ্বাস করছেন, দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। (সহিহ মুসলিম, ২২০০)
আপনি প্রমাণিত দোয়া পড়বেন। কিন্তু কোনো পরিচিতজনের বানানো পদ্ধতি, নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময়কে দলিল ছাড়া “অবশ্যই এভাবেই করতে হবে” বলবেন না। যেখানে সংখ্যা সুন্নাহতে নির্দিষ্ট, সেখানে সেটিই মানবেন; যেখানে নেই, সেখানে নিজের নিয়মকে সুন্নাহর মর্যাদা দেবেন না।
4. কী কী প্রস্তুতি আসলে দরকার?
প্রথম প্রস্তুতি মানসিক: ভয় কমিয়ে আল্লাহর দিকে মন ফেরানো। দ্বিতীয় প্রস্তুতি জ্ঞানগত: যে আয়াত বা দোয়া পড়বেন, সেটি সঠিকভাবে জানা। তৃতীয় প্রস্তুতি বাস্তব: শরীর বা মনের যে সমস্যা আছে, তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সহায়তা অবহেলা না করা।
এ জন্য কোনো বিশেষ ঘর, পোশাক, বোতল, তেল বা রাকির অনুমতি বাধ্যতামূলক শর্ত বানাবেন না। স্বাভাবিক ও শান্ত পরিবেশে পড়তে পারলে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়; পরিবেশের সুবিধাকে শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত বলা যাবে না।
আপনার আরবি পড়া দুর্বল হলে পরিচিত ছোট সূরাগুলো সহিহভাবে শেখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে যোগ্য শিক্ষকের সাহায্য নিন। বাংলা অনুবাদ থেকে অর্থ বুঝুন, কিন্তু অনুবাদকে কুরআনের আরবি তিলাওয়াত মনে করবেন না। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে সাধারণ দোয়া করতে পারেন; সেটিকে নির্দিষ্ট হাদিসের দোয়া বলে চালাবেন না।
5. কী পড়বেন, তার সীমা আগে বুঝে নিন
সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহ এবং রাতে ঘুমের আগে আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস পড়ার প্রমাণিত আমল আগের আলোচনায় এসেছে। এর প্রয়োগ পরের অধ্যায়ে সহজভাবে দেখব।
এগুলো শুরু করার জন্য পরিচিত প্রমাণিত ভিত্তি। তবে প্রতিটি প্রমাণকে তার নিজের প্রসঙ্গে রাখুন। একটি আমলের অংশ জুড়ে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নতুন “প্যাকেজ” বানাবেন না। কোনটি কীভাবে পড়বেন, কতবার পড়ার প্রমাণ আছে এবং কোথায় নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, পরের অধ্যায়ে সহজভাবে দেখব।
6. চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্ক কী?
রুকইয়াহ শুরু করলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। নতুন, গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গের প্রয়োজনীয় মূল্যায়নও পিছিয়ে দেবেন না। আগের অধ্যায়গুলোতে বিপদের লক্ষণ ও চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিয়ে আলাদা আলোচনা হয়েছে; প্রয়োজন হলে অধ্যায় ৪ ও ২৭ দেখুন।
একজন মানুষ একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে এবং আল্লাহর কাছে শিফা চাইতে পারেন। কোনো একটি পথে ফল দেরিতে এলে নিজেকে দোষ দেবেন না, আর কোনো ব্যক্তি দ্রুত শিফার নিশ্চয়তা দিলে সেটিও গ্রহণ করবেন না।
7. রুকইয়াহর সময় কী আশা করবেন?
আপনার কাজ কুরআন ও দোয়া পড়া, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং প্রয়োজনীয় বাস্তব ব্যবস্থা নেওয়া। কাঁপুনি, কান্না, ঘুম, হাই বা শরীরে গরম অনুভূতি হওয়া রুকইয়াহ সফল হওয়ার শর্ত নয়। এমন কিছু ঘটলেও তা একা জিন, জাদু বা বদনজরের প্রমাণ নয়।
শুরুতে নিজের জন্য একটি সহজ লক্ষ্য রাখুন: প্রমাণিত আমলটি শান্তভাবে করব, যা পড়ছি তা বুঝতে চেষ্টা করব, আর নিজের কষ্টের প্রয়োজনীয় সাহায্য নেওয়া বন্ধ করব না। ফল কখন বা কীভাবে আসবে, তার নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবেন না।
এখন কী করবেন?
১. আপনার মূল উদ্বেগটি একটি বাক্যে লিখুন: অসুস্থতা, ভয়, ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, নাকি অন্য কিছু?
২. জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না দেখুন। থাকলে আগে সেই সহায়তা নিন।
৩. আপনি যে সূরা বা প্রমাণিত দোয়া সঠিকভাবে জানেন, সেটি বেছে নিন।
৪. আল্লাহর কাছে শিফা ও হেফাজত চান। অদৃশ্য কারণ নিশ্চিত করার চাপ নেবেন না।
৫. পরিচিত প্রমাণের বাইরে নতুন সংখ্যা, সময় বা ফলের প্রতিশ্রুতি যোগ করবেন না।
মনে রাখুন
নিজের জন্য রুকইয়াহ করার সুন্নাহতে প্রমাণ আছে।
অন্যের সাহায্য নেওয়ার সুযোগও আছে; নিজের অক্ষমতাকে দোষ বানাবেন না।
রুকইয়াহ করতে অদৃশ্য রোগের নাম নিশ্চিত জানা লাগে না।
শিফা আল্লাহর হাতে; মাধ্যমকে স্বাধীন ক্ষমতা দেবেন না।
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা চালিয়ে যান।
বিস্তারিত পাঠপদ্ধতি ও ধারাবাহিক প্রয়োগ পরের অধ্যায়ের বিষয়।
পরের অধ্যায়ে
এখানে আমরা কেন এবং কী প্রস্তুতি, সেই ভিত্তি পরিষ্কার করেছি। পরের অধ্যায়ে আলোচনা করব: নিজের জন্য রুকইয়াহ শুরু করবেন কীভাবে? সেখানে প্রমাণিত পাঠ, প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি এবং কোথায় নির্দিষ্ট নিয়ম আছে বা নেই, ধাপে ধাপে দেখব।
How to start ruqyah for yourselfতথ্যসূত্র
১. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৭৫১।
২. সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০০।
Reviewed by Emad Uddin, 18 October 2026
Want to talk about your own situation?
You can choose a consultation time on the Ruqyah support page.