Skip to main content

Welcome to Nurul Qalam Academy

01577301161

Part four · আয়াত দোয়া ও দৈনন্দিন আমল

Chapter 19

Authentic du'as of ruqyah

Learning the du'as of ruqyah and healing narrated in authentic hadith, with source references.

6 questionsAbout 4 min read

This chapter is written in Bangla. An English version has not been published yet.

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

অসুস্থ হলে মানুষ আল্লাহর কাছে শিফা চান। কেউ নিজের ব্যথার জায়গায় হাত রেখে দোয়া পড়েন; কেউ অসুস্থ প্রিয়জনের পাশে বসে দোয়া করেন। হাদিসে এমন কয়েকটি দোয়ার বর্ণনা আছে। তবে সব দোয়ার ভাষা, অবস্থান ও সংখ্যা এক নয়।

এখানে চারটি দোয়া একসঙ্গে রাখা হলো, যাতে প্রয়োজনের সময় পাঠ ও অর্থ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। কোনো দোয়ার সঙ্গে যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি এসেছে, সেটি কেবল সেই বর্ণনার ক্ষেত্রেই বলা হবে। যেখানে সংখ্যা বলা হয়নি, সেখানে নতুন বাধ্যতামূলক সংখ্যা যোগ করা হবে না।

1. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শিফার দোয়া

আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেলে তাঁর জন্য এভাবে দোয়া করতেন। (সহিহ আল-বুখারি, ৫৬৭৫)

أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

অর্থ: হে মানুষের রব, কষ্ট দূর করুন। শিফা দিন; আপনিই শিফাদাতা। আপনার শিফা ছাড়া কোনো শিফা নেই। এমন শিফা দিন, যা কোনো অসুস্থতা বাকি রাখে না।

এই দোয়ায় শিফা আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়। নবী ﷺ অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এটি পড়েছেন; সহিহ আল-বুখারি ৫৭৪২-এ আনাস (রা.) থেকেও কাছাকাছি অর্থের একটি পাঠ এসেছে। শব্দের পার্থক্য থাকলে একাধিক বর্ণনাকে জুড়ে নিজের বানানো “একমাত্র সঠিক” পাঠ ঘোষণা করবেন না। এখানে উপরে উদ্ধৃত বুখারি ৫৬৭৫-এর পাঠটিই রাখা হয়েছে।

2. নিজের শরীরের নির্দিষ্ট ব্যথায়

উসমান ইবন আবিল আস (রা.) শরীরের ব্যথার কথা জানালে নবী ﷺ তাঁকে ব্যথার জায়গায় হাত রাখতে বলেন। প্রথমে তিনবার:

بِاسْمِ اللَّهِ

অর্থ: আল্লাহর নামে।

তারপর সাতবার:

أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

অর্থ: যে কষ্ট আমি অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম, ২২০২)

এখানে তিন ও সাতবার বর্ণিত; এগুলো সব দোয়া বা সব সূরার সংখ্যা নয়। ব্যথার জায়গায় হাত রাখা নিরাপদ বা সম্ভব না হলে শরীরকে জোর করবেন না। ব্যথার চিকিৎসা দরকার হলে সেটিও নিন। পদ্ধতিটি অধ্যায় ১৪-তে আছে; প্রয়োজনের সময় এক জায়গায় পাওয়ার জন্য আরবি ও অর্থ এখানে আবার রাখা হলো।

3. অন্যের জন্য রুকইয়াহর দোয়া

আবু সাঈদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, জিবরীল (আ.) নবী ﷺ অসুস্থ হলে তাঁর জন্য এ দোয়া পড়েন। (সহিহ মুসলিম, ২১৮৬)

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনার জন্য রুকইয়াহ করছি, যা আপনাকে কষ্ট দেয় তার সবকিছু থেকে, প্রত্যেক ক্ষতিকর প্রাণ বা হিংসুকের নজরের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন। আল্লাহর নামে আপনার জন্য রুকইয়াহ করছি।

এটি একজনের অন্যের জন্য পড়ার ভাষা। কেবল “অন্যের দোয়া আছে” বলেই তাঁর অনুমতি ছাড়া স্পর্শ, জোর করে সেশন বা নিশ্চিত রোগনির্ণয়ের অধিকার তৈরি হয় না। আল-ফালাকের মতো এখানে হিংসুকের নজরের কথা থাকলেও যে ব্যক্তির জন্য পড়া হচ্ছে, তাঁর কষ্টের কারণ নির্দিষ্ট কোনো হিংসুক, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

4. শিশুদের জন্য আশ্রয়ের দোয়া

ইবন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (সহিহ আল-বুখারি, ৩৩৭১)

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

অর্থের মূল কথা: আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমার আশ্রয় চাই, প্রত্যেক শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী এবং ক্ষতিকর নজর থেকে।

এখানে শিশুদের জন্য আশ্রয় চাওয়ার প্রমাণ আছে। শিশুর জ্বর, আচরণগত পরিবর্তন বা কান্নার কারণ নির্ণয়ের পদ্ধতি এই দোয়া নয়। শিশুর অসুস্থতা বা বিপদের লক্ষণ থাকলে দোয়া পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন। শিশু ও পরিবারের প্রসঙ্গ অধ্যায় ১২-তে রয়েছে।

5. আরবি পাঠ, অর্থ ও শেখার পথ

আরবি যে পাঠটি উদ্ধৃত করা হলো, নির্ভরযোগ্য মুদ্রিত বা ডিজিটাল মূল হাদিসের সঙ্গে তা মিলিয়ে পড়ুন। একটি হাদিসের ভিন্ন বর্ণনায় শব্দের কিছু পার্থক্য থাকতে পারে; পাঠের উৎস না দেখে মিলিয়ে নতুন বাক্য তৈরি করবেন না। সঠিক উচ্চারণ না জানলে যোগ্য শিক্ষকের কাছে শিখুন। এখানে বাংলা হরফে উচ্চারণ দেওয়া হয়নি, কারণ বানান দিয়ে আরবির ধ্বনি নির্ভুলভাবে শেখানো কঠিন এবং এই অধ্যায়ের উচ্চারণ আলাদাভাবে যাচাইকৃত নয়।

আরবি দোয়ার অর্থ বুঝে আল্লাহর কাছে চাইতে চেষ্টা করুন। নিজের ভাষায় সাধারণ দোয়াও করতে পারেন। তবে নিজের বানানো বাংলা বাক্যকে “নবী ﷺ-এর হুবহু শেখানো দোয়া” বলবেন না।

6. কোনো দোয়া বেছে নেবেন?

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে চাইলে প্রথম বা তৃতীয় দোয়াটি প্রাসঙ্গিক। নিজের নির্দিষ্ট ব্যথায় দ্বিতীয়টির বিশেষ বর্ণনা আছে। শিশুর জন্য আশ্রয় চাইতে চতুর্থটি পড়তে পারেন। এই নির্দেশনা বর্ণিত অবস্থার সঙ্গে দোয়ার মিল দেখায়; চারটিই প্রত্যেকবার একই ক্রমে পড়তে হবে, এমন নিয়ম নয়।

কোনো কষ্টে আপনি পুরো তালিকা না পারলে যতটুকু জানেন পড়ুন। ফল কত দিনে হবে বা পড়ার সময় কী অনুভূতি হবে, এই দোয়াগুলো তার পরীক্ষার তালিকা দেয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চলতে থাকুক।

এখন কী করবেন?

* আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন একটি প্রমাণিত দোয়া বেছে নিন।

* আরবি পাঠ নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক উচ্চারণ শিখুন।

* যে দোয়ায় নির্দিষ্ট সংখ্যা এসেছে, কেবল সেখানে সেটি অনুসরণ করুন।

* কাউকে ভয় দেখিয়ে রোগের অদৃশ্য কারণ বা শিফার সময় ঘোষণা করবেন না।

মনে রাখুন

দোয়া আল্লাহর কাছে চাওয়া, বিশেষ শব্দের নিজস্ব ক্ষমতা দাবি করা নয়। প্রমাণিত শব্দ ও পদ্ধতিকে সম্মান করুন। দোয়ার পাশে মানুষের সম্মতি, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জায়গাও রাখুন।

পরের অধ্যায়ে

এখানে রুকইয়াহর নির্বাচিত দোয়া দেখলাম। পরের অধ্যায়ে সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের মাসনুন আমলকে সময় অনুযায়ী সাজিয়ে দেখব। সেগুলোর নিজস্ব দলিল ও সংখ্যা থাকবে; এই অধ্যায়ের দোয়াগুলোকে জুড়ে নতুন বাধ্যতামূলক প্যাকেজ বানানো হবে না।

অধ্যায় ২০: সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের মাসনুন আমল

Sunnah practices for morning, evening and sleep

তথ্যসূত্র

১. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৬৭৫: অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আয়িশা (রা.) বর্ণিত শিফার দোয়া।

২. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৭৪২: আনাস (রা.)-এর সূত্রে কাছাকাছি অর্থের অন্য পাঠ; প্রধান আরবি উদ্ধৃতি হিসেবে এখানে ব্যবহার হয়নি।

৩. সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০২: ব্যথার স্থানে হাত রেখে আল্লাহর নাম তিনবার ও আশ্রয়ের দোয়া সাতবার।

৪. সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৮৬: জিবরীল (আ.)-এর নবী ﷺ-এর জন্য রুকইয়াহর দোয়া।

৫. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩৩৭১: হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য আশ্রয়ের দোয়া।

Reviewed by Emad Uddin, 18 October 2026

Want to talk about your own situation?

You can choose a consultation time on the Ruqyah support page.

Book a consultation
Back to the book index