Skip to main content

Welcome to Nurul Qalam Academy

01577301161

Part four · আয়াত দোয়া ও দৈনন্দিন আমল

Chapter 18

Selected Qur'anic verses used in ruqyah and protection

An introduction to selected Qur'anic passages used in ruqyah and protection, and why they are relevant.

5 questionsAbout 6 min read

This chapter is written in Bangla. An English version has not been published yet.

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

রুকইয়াহ করতে বসে অনেকে দীর্ঘ একটি তালিকা খোঁজেন। কোন সূরা আগে, কোন আয়াত কতবার, কোন অসুখে ঠিক কোন অংশ? এমন তালিকা পেলে কাজ সহজ মনে হয়। কিন্তু সব আয়াতের জন্য এক নিয়ম কুরআন বা সহিহ হাদিসে দেওয়া হয়নি।

আল্লাহ কুরআনকে মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত বলেছেন। (সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২) সূরা ইউনুসে মানুষের অন্তরের জন্য উপদেশ, শিফা, পথনির্দেশ ও রহমতের কথাও এসেছে। (১০:৫৭) এই আয়াতগুলো কুরআনের মর্যাদা বোঝায়। এগুলো থেকে নিজের মতো করে প্রত্যেক রোগের জন্য নির্দিষ্ট সূরা, সংখ্যা বা সময়ের নিশ্চয়তা ঘোষণা করা যায় না।

এই অধ্যায়ে কিছু পরিচিত পাঠের পরিচয় ও দলিল এক জায়গায় রাখা হলো। যেখানে কোনো বিশেষ সময় বা পদ্ধতির হাদিস আছে, সেখানে সেটুকুই বলা হবে। আর যেখানে তেমন নির্দেশ নেই, সেখানে পাঠটি কুরআন হিসেবে পড়া ও আল্লাহর কাছে দোয়া করার সাধারণ সুযোগ থাকবে।

1. সূরা আল-ফাতিহা

আল-ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহ করার ঘটনা সহিহ হাদিসে এসেছে; নবী ﷺ সেই রুকইয়াহ অনুমোদন করেছেন। ঘটনাটি অধ্যায় ২-এ এবং নিজের জন্য শুরু করার প্রয়োগ অধ্যায় ১৪-তে আলোচনা হয়েছে। (সহিহ আল-বুখারি, ৫৭৩৬)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ

ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ

مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ

صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ

অর্থের মূল দিক: আল্লাহর প্রশংসা, তাঁরই ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনা এবং সরল পথের দোয়া। আপনি সূরাটি সঠিকভাবে পড়ে আল্লাহর কাছে শিফা চাইতে পারেন। হাদিসের সেই ঘটনার ভেতরে নির্ধারিত প্রয়োগ আর আপনার প্রতিদিনের ব্যক্তিগত পরিকল্পনা এক নয়; প্রমাণের বাইরে সবার জন্য বাধ্যতামূলক সংখ্যা যোগ করবেন না।

2. আয়াতুল কুরসি: সূরা আল-বাকারা, ২:২৫৫

আরবি পাঠ, সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫:

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ

ভাবার্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা আছে, সব তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি সৃষ্টির সামনে ও পেছনের সব জানেন; তাঁর ইচ্ছামতো যতটুকু, তার বাইরে তাঁর জ্ঞান থেকে কেউ কিছু আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে; এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর একত্ব, চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক হওয়ার কথা, তাঁর জ্ঞান, কর্তৃত্ব ও মহিমা এসেছে। উপরে পূর্ণ আরবি পাঠ আছে; নির্ভরযোগ্য মুসহাফের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন। শোয়ার আগে পাঠের একটি ঘটনা ও নবী ﷺ-এর অনুমোদন সহিহ আল-বুখারি ২৩১১-এ আছে; অধ্যায় ১০-এ তা আলোচনা হয়েছে।

এই দলিল ঘুমের আগে আয়াতটি পড়ার ভিত্তি দেয়। কিন্তু “প্রতি ব্যথায় ঠিক সাতবার আয়াতুল কুরসি” বা “পড়ামাত্র নির্দিষ্ট রোগ সেরে যাবে” এমন বাড়তি দাবি এখান থেকে করা যাবে না। দীর্ঘ আয়াতটি মুখস্থ না থাকলে দেখে ধীরে পড়ুন এবং ভুল উচ্চারণ থাকলে যোগ্য শিক্ষকের কাছে সংশোধন করুন।

3. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত: ২:২৮৫–২৮৬

আরবি পাঠ, সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫:

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ

ভাবার্থ: রাসুল তাঁর রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছেন, মুমিনরাও তাই করেছেন। তাঁরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, কিতাব ও রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছেন; ঈমানের ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর কোনো রাসুলকে বাদ দেন না। তাঁরা বলেন, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব, আপনার ক্ষমা চাই; আপনার কাছেই ফিরে যেতে হবে।

আরবি পাঠ, সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬:

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ

ভাবার্থ: আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যে ভালো অর্জন করে তার ফল তারই, আর যে মন্দ অর্জন করে তার দায়ও তার। হে আমাদের রব, ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না। আমাদের আগের লোকদের ওপর যেমন কঠিন ভার দিয়েছিলেন, আমাদের ওপর তেমন ভার দেবেন না। যা বহনের শক্তি নেই, তা আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমাদের মার্জনা করুন, ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক; সত্য অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।

এই দুই আয়াতে ঈমান, আনুগত্য, ক্ষমা এবং সামর্থ্যের বাইরে বোঝা না দেওয়ার দোয়া রয়েছে। রাতে শেষ দুই আয়াত পাঠ সম্পর্কে নবী ﷺ বলেছেন, সেগুলো পাঠকারীর জন্য যথেষ্ট হবে। (সহিহ আল-বুখারি, ৫০০৯) “যথেষ্ট” শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলেমি আলোচনা আছে; একে নিজের কল্পিত ফলের তালিকায় সীমাবদ্ধ করবেন না।

উপরে আয়াত দুটির পূর্ণ আরবি পাঠ আছে; নির্ভরযোগ্য মুসহাফের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন। এগুলো পড়ার প্রমাণিত রাতের মর্যাদা আছে; এর সঙ্গে অজানা শর্ত, বিশেষ আয়োজন বা অন্য আয়াতের ওপর একই নিয়ম চাপানোর দরকার নেই।

4. সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস

আল-ইখলাসে আল্লাহর একত্বের ঘোষণা। আল-ফালাকে সৃষ্টির অনিষ্ট, অন্ধকার, গিরায় ফুঁ দেওয়া ও হিংসার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়। আন-নাসে মানুষের রবের কাছে কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়।

আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ শোয়ার সময় এই তিন সূরা পড়ে হাতে হালকা ফুঁ দিতেন এবং যতটুকু পারতেন শরীরে হাত বুলাতেন; পুরো আমলটি তিনবার করতেন। (সহিহ আল-বুখারি, ৫০১৭) ব্যবহারিক ধাপ অধ্যায় ১৪-তে আছে। এই তিনবার সেই আমলের সংখ্যা; সব কুরআন-পাঠের জন্য সাধারণ বাধ্যবাধকতা নয়।

সূরা আল-ইখলাস (১১২:১–৪)

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ

ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ

সূরা আল-ফালাক (১১৩:১–৫)

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

সূরা আন-নাস (১১৪:১–৬)

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ

مَلِكِ ٱلنَّاسِ

إِلَـٰهِ ٱلنَّاسِ

مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ

ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ

مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ

এই তিন সূরা পড়ার সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন না। আল-ফালাকে হিংসা ও গিরায় ফুঁ দেওয়ার উল্লেখ আছে বলেই আপনার প্রতিটি কষ্টের কারণ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা জাদু, এমন সিদ্ধান্ত হবে না।

5. কোন আয়াত কীভাবে বাছবেন?

প্রথমে যে পাঠ আপনি সঠিকভাবে জানেন, তা দিয়ে শুরু করুন। প্রয়োজনমতো মুসহাফ দেখে পড়ুন, অর্থ জানার চেষ্টা করুন এবং নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নির্দিষ্ট হাদিসে আমলের যে সময় বা পদ্ধতি আছে তা মানুন; বাকিগুলোতে নিজের সুবিধামতো পড়াকে প্রমাণিত নির্দিষ্ট রুটিন বলে প্রচার করবেন না।

কেউ যদি কোনো আয়াতের সঙ্গে গোপন সংখ্যা, রোগের নিশ্চিত নাম বা ফলের সময়সীমা জুড়ে দেন, তাঁর দলিল জানতে চান। কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা মানে তাঁর নামে নিজের বানানো নিয়ম প্রচার না করা। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে সেটিও চালিয়ে যান।

এখন কী করবেন?

* আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং তিন সূরার রেফারেন্স মুসহাফে চিহ্নিত করুন।

* যেটি জানেন না, সেটি নির্ভরযোগ্য পাঠ ও শিক্ষকের সহায়তায় শিখুন।

* যেখানে হাদিসে বিশেষ পদ্ধতি আছে, শুধু সেখানে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

* অনুভূতি দিয়ে জিন, সিহর বা বদনজর নির্ণয় করবেন না।

মনে রাখুন

কুরআন শিফা ও রহমত; তাঁর পাঠ আল্লাহর দিকে ফেরায়। আলাদা আয়াতের নির্দিষ্ট ফজিলতের বর্ণনা থাকলে সেটি সম্মান করুন। তবে পূর্ণ কুরআনকে কোনো রোগনির্ণয়ের কোড বা প্রতিটি উপসর্গের গোপন প্রেসক্রিপশন বানাবেন না।

পরের অধ্যায়ে

আয়াতের পাশাপাশি নবী ﷺ-এর শেখানো দোয়াও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরের অধ্যায়ে কিছু প্রমাণিত দোয়ার আরবি পাঠ, অর্থ এবং কোন পরিস্থিতিতে তার বর্ণনা এসেছে, তা দেখব।

অধ্যায় ১৯: প্রামাণিক রুকইয়াহর দোয়া

Authentic du'as of ruqyah

তথ্যসূত্র

১. আল-কুরআন: সূরা আল-ফাতিহা ১:১–৭; আল-বাকারা ২:২৫৫, ২:২৮৫–২৮৬; আল-ইসরা ১৭:৮২; ইউনুস ১০:৫৭; আল-ইখলাস ১১২:১–৪; আল-ফালাক ১১৩:১–৫; আন-নাস ১১৪:১–৬। আরবি পাঠ Quran.com-এর প্রদর্শিত উসমানি রীতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫ এবং ২:২৮৫–২৮৬-এর ভাবার্থ মূল আয়াত ও তায়সিরুল কুরআনের বাংলা অনুবাদের সঙ্গে মিলিয়ে সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে।

২. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫৭৩৬: আল-ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহর অনুমোদন।

৩. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ২৩১১: শোয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের ঘটনা ও অনুমোদন।

৪. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০০৯: রাতে আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত।

৫. সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০১৭: শোয়ার আগে তিন সূরার আমল।

Reviewed by Emad Uddin, 18 October 2026

Want to talk about your own situation?

You can choose a consultation time on the Ruqyah support page.

Book a consultation
Back to the book index